স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে চাই আরও কামরুল ইসলাম সিদ্দিক : আইইবি সভাপতি
কামরুল ইসলাম সিদ্দিক প্রকৌশলী হলেও তিনি ছিলেন দক্ষ প্রশাসক, কর্মবীর ও আপোষহীন একজন সরকারি কর্মকর্তা যিনি আমলাতন্ত্রের বাধা অতিক্রম করতে সক্ষম হয়েছিলেন। আজকের উন্নয়নের গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নে তিনি সুদূরপ্রসারি পদক্ষেপ নিয়েছিলেন। তিনি বেঁচে থাকলে প্রকৌশলীদের ক্যাডারভুক্ত হওয়া এবং সম্মানজনক সুবিধা পেতে বেগ পেতে হতো না। তার সাহসী নেতৃত্বের শুন্যতা রয়েছে এখনো। এই শূন্যতা পূরণে অচিরেই কামরুল ইসলাম সিদ্দিক গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন গবেষণা সেন্টার স্থাপনের প্রস্তাব দেয়া হয়।
সোমবার সন্ধ্যায় প্রকৌশলী কামরুল ইসলাম সিদ্দিক এর ১৫তম মৃত্যু বার্ষিকী উপলক্ষে ইঞ্জিনিয়ার্স ফাউন্ডেশন আয়োজিত স্মরণসভায় এই প্রস্তাব করা হয়।
‘তিনি ছিলেন কর্মবীর ভিশনারি নেতা’
প্রকৌশলী মোঃ শহিদুল হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশের সভাপতি প্রকৌশলী মোঃ আব্দুস সবুর। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর গ্রাম হবে শহর এর গোড়াপত্তন ঘটেছে এলজিইডি’র ধারণা। একজন বীরমুক্তিযোদ্ধা মাটি ও মানুষের সঙ্গে সর্বনিম্ন মূল্যে সর্বোত্তম সেবা দেয়ার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন কামরুল ইসলাম সিদ্দিক। আজ গ্রামীণ অবকাঠামোর উন্নয়নের সূচনা ঘটিয়েছেন তিনি। স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণের জন্য আরো কয়েকজন কামরুল ইসলাম সিদ্দিক দরকার। তিনি প্রযুক্তি ব্যবহারে এলজিইডি’র মাধ্যমে সুশানের সূচনা করেছেন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে স্মৃতিচারণ করে আইইবি সাবেক সভাপতি প্রকৌশলী মোঃ নুরল হুদা বলেন, উনি খুবই উদ্ভাবনী জ্ঞান ও সাহসী ছিলেন। তার কর্মদক্ষতা ও নেতৃত্ব আমাকে অভিভূত করেছে। ওনার উদ্যোগেই সকল বিরোধিতা উপেক্ষা করে আমি রমনায় নিজস্ব জায়গায় আইইবি ভবন করতে সক্ষম হয়েছি।
আইইবি সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী এস এম মঞ্জুরুল হক মঞ্জু বলেন, আজ তার মতো ব্যক্তিত্ববান ও কর্মবীর মানুষের বড়ই অভাব। তার মতো প্রকৌশলী প্রশাসক থাকলে আমলাতান্ত্রিক বাধা থাকতো না।
সাবেক আইইবি প্রেসিডেন্ট প্রকৌশলী মোঃ কবির আহমেদ ভূইয়া বলেন, কামরুল ইসলাম সিদ্দিক এর মতো ব্যক্তিত্ববান মানুষ থাকলে এখন আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় প্রকৌশলীদের নাজুক অবস্থায় থাকতে হতো না। তিনিই বাংলাদেশের গ্রামীণ অবকাঠামোর উন্নয়নের পাশাপাশি প্রকৌশলীদের ডিজিটাল রূপান্তর ঘটিয়েছেন।
বাবার স্মৃতিচারণ করে আইসিসি কমিউনিকেশন ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও আইএসপিএবি সিনিয়র সহসভাপতি সাইফুল ইসলাম সিদ্দিক বলেন, মানব সম্পদ উন্নয়ন, কানক্টিভিটি ও প্রযুক্তির ব্যবহারে সুশাসনের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন আমার বাবা। তিনি ছিলেন খুবই কাজ পাগল মানুষ। মৃত্যুর আধাঘণ্টা আগেও তিনি যে মেইলটি জেআরসি স্যারকে করেছিলেন সেটি ছিলো এক্সপ্রেসওয়ে। আজ তা বাস্তব।
প্রকৌশলী শেখ তাজুল ইসলাম তুহিনের সঞ্চালনায় স্মরণসভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন এলজিইডি’র প্রধান প্রকৌশলী মতিউর রহমান, প্রকৌশলী মোঃ নুরুজ্জামান, ব্যক্তিগত সহকারি, ফেরদৌস আলী মন্ডল, লেখক আজিজ মিসির সেলিম, সহকারি প্রকৌশলি রেজাউল ইসলাম, প্রকৌশলি কামরুল ইসলাম, নর্বাহী প্রকৌশলি আব্দুল কাদের, কামরুজ্জামান ভূঁইয়া প্রমুখ।







